ঈদযাত্রায় সদরঘাটে লঞ্চে উঠতে গিয়ে বুড়িগঙ্গায় পড়ে যান নারীসহ ৫ যাত্রী
ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ছিল ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যার দিকে যাত্রীদের চাপ বাড়তেই ঘটে যায় এক ভয়াবহ ঘটনা। অতিরিক্ত ভিড় ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে লঞ্চে উঠতে গিয়ে পা পিছলে বুড়িগঙ্গা নদীতে পড়ে যান অন্তত পাঁচজন যাত্রী, যাদের মধ্যে তিনজন নারী এবং দুইজন পুরুষ ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ:
মঙ্গলবার (৫ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে বরিশালগামী একটি লঞ্চে ওঠার সময় হুড়োহুড়ি করে আগেভাগে সিট দখলের চেষ্টা করছিলেন যাত্রীরা। ঠিক সেই সময় পন্টুন ও লঞ্চের মাঝে ভারসাম্য হারিয়ে নদীতে পড়ে যান তারা। মুহূর্তেই আশপাশে চিৎকার ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
উদ্ধার অভিযান:
ঘটনার পরপরই নৌ-পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএ (বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ) এর কর্মীরা দ্রুত উদ্ধার অভিযানে নামে। নদীতে পড়ে যাওয়া পাঁচজন যাত্রীকে অক্ষত অবস্থায় পানি থেকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে একজন নারী সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন:
প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন, ঈদের মতো বড় উৎসবের সময়েও টার্মিনালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার অভাব রয়েছে। এমনকি প্রবেশ ও প্রস্থান পথে ছিল না কোনো সহায়ক কর্মী বা দিকনির্দেশনা। ফলে যাত্রীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।
একজন যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“প্রতিবার ঈদের সময় একই জিনিস দেখি—দায়িত্বশীল কেউ থাকে না, যাত্রীদের জীবনের কোনো মূল্যই যেন নেই।”
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য:
বিআইডব্লিউটিএর এক কর্মকর্তা জানান,
“ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত, তবে কারো বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। আমরা এখন থেকে আরও কড়াকড়ি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেব এবং পন্টুনে বাড়তি কর্মী মোতায়েন করব।”
তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের ভিড়ের সময় ধৈর্য ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে লঞ্চে ওঠার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
উপসংহার:
ঈদের আনন্দে ঘরে ফেরার এই যাত্রা যেন দুর্ঘটনায় রূপ না নেয়, সে জন্য যাত্রীদের সচেতনতার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। না হলে ভবিষ্যতে এর চেয়েও বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারে।




0 Comments