বাউফলে এইচএসসি পরীক্ষার্থী খুন, আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ
পটুয়াখালীর বাউফলে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ফাহিম বয়াতী (১৯) হত্যাকাণ্ডের চার দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো মূল আসামি শাকিল ও সোহাগকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ফাহিমের সহপাঠী, শিক্ষক ও এলাকাবাসী।
শনিবার (৫ জুলাই) দুপুরে নওমালা আব্দুর রশিদ খান ডিগ্রি কলেজ মাঠে এক বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনের আয়োজন করে নিহতের সহপাঠী ও স্থানীয় জনতা। এ সময় ফাহিমের খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।
বক্তারা বলেন, নিহত ফাহিম ছিলেন ওই কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। পূর্ব বিরোধের জের ধরে এবং অভিযুক্ত শাকিলকে (১৮) ‘গাঁজাখোর’ বলে মন্তব্য করার জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ তাদের। স্থানীয়রা দাবি করছেন, খুনের চার দিন পরেও আসামিরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন, যা পুলিশের ব্যর্থতা ও নির্লিপ্ততা প্রমাণ করে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেফতার না করলে কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারিও দেন শিক্ষার্থীরা।
ঘটনার বিবরণ
গত মঙ্গলবার (১ জুলাই) বাউফল, দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ফাহিম বয়াতীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই সময় তার বাবা জাকির হোসেন তাকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। বর্তমানে তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পর স্থানীয়রা একজন হামলাকারীকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
আইনি অগ্রগতি
বাউফল থানার ওসি আকতারুজ্জামান সরকার জানান, ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তরা বাউফল এলাকার হলেও ঘটনাস্থল দশমিনা থানার আওতাভুক্ত হওয়ায় মামলাটি সেখানে হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা দশমিনা থানা পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি।”
দশমিনা থানার ওসি আবদুল আলীম জানান, এ ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মূল আসামি শাকিল ও সোহাগ এখনও পলাতক। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে এবং খুব দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।




0 Comments