শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রাক্কালে: ৪ আগস্টের রক্তাক্ত ইতিহাস
৪ আগস্ট, ২০২৫—বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি রক্তাক্ত দিন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগের দিন, গোটা দেশ জুড়ে নেমে আসে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের নির্মম ঝড়। জঙ্গিদমন কৌশলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে চালানো হয় গুলি, বেদম মারপিট, আর ভয়াবহ নিপীড়ন।
এই দিনটির শুরু হয় এক দুঃসাহসী রিট খারিজের মাধ্যমে—আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না করার নির্দেশনা চেয়ে করা সেই আবেদনও আমলে নেয়নি আদালত। সরকার যেন স্পষ্ট করে দিল, সামনে যা আসবে, তাতেই চালানো হবে রাষ্ট্রের সব শক্তি।
🔥 অসহযোগে উত্তাল রাজপথ
‘শেখ হাসিনার পদত্যাগ’—এই এক দফা দাবিকে সামনে রেখে সারাদেশে শুরু হয় অসহযোগ কর্মসূচি। ঢাকার যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, প্রগতি সরণি, শাহবাগ, কারওয়ান বাজার, সায়েন্সল্যাব, ধানমন্ডি—সব এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
ইস্ট ওয়েস্ট, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাধারণ মানুষ রাজপথে নামেন। সশস্ত্র ছাত্রলীগ, যুবলীগ আর পুলিশ বাহিনী গুলি চালায়, টিয়ারশেল ফাটায়। প্রতিরোধ গড়ে তোলে খালি হাতে শত শত মানুষ।
🩸 ঢাকা মেডিকেলের দেয়ালে রক্ত
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে বিকেল নাগাদ ভর্তি হন ৬৭ জন গুলিবিদ্ধ মানুষ। গুরুতর আহত আরও দুই শতাধিক। জরুরি বিভাগেই মারা যান ৭ জন। নার্স ও চিকিৎসকেরা তখন এক মুহূর্ত বিশ্রামহীনভাবে যুদ্ধ করছেন মৃত্যু আর জীবনের মাঝখানে।
🪖 সেনাবাহিনীর ভিন্ন অবস্থান?
মিরপুরে দেখা যায় অভূতপূর্ব দৃশ্য। সরকার-সমর্থিত বাহিনীর বিপরীতে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ায় সেনাবাহিনীর একটি অংশ। ছাত্রলীগ-পুলিশকে লক্ষ্য করে ফাঁকা গুলি ছুড়ে তারা বুঝিয়ে দেয়—সবাই একপাশে নেই।
এই ঘটনার পরপরই ঢাকায় এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান, ও মন্ত্রীসভার সদস্যরা। সেনাবাহিনীকে গুলি চালানোর নির্দেশ দিতে চাপ দেওয়া হয়—এমন অভিযোগও ছড়িয়ে পড়ে।
🗓️ মার্চ টু ঢাকা: পরিকল্পনার ফাঁদ
প্রথমে ঘোষণা ছিল ৬ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’। কিন্তু ঘোষণা আসে: দিন এগিয়ে ৫ আগস্ট করা হবে পদযাত্রা। আন্দোলনের সমন্বয়করা জানান, এটি ছিল কৌশলগত এক “ফাঁদ”—সরকারকে বিভ্রান্ত করার জন্য নেওয়া দ্রুত সিদ্ধান্ত।
🌪️ সামনে কী?
৪ আগস্টের প্রতিরোধ ছিল কেবল সূচনা। চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, দিনাজপুর, ঝিনাইদহসহ পুরো দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে অভূতপূর্ব গণআন্দোলন। বাতাস ভারী হয়ে ওঠে, যেন ইতিহাস নিজেই অপেক্ষা করছে এক মোড় পরিবর্তনের।
📣 উপসংহার
বাংলাদেশ আজ এক সন্ধিক্ষণে। রাষ্ট্রীয় দমন, ছাত্র-জনতার প্রতিরোধ, আর শাসকের পতনের আগাম বার্তা একসাথে মিলেমিশে রচনা করছে ইতিহাস। ৪ আগস্ট ছিল গর্জনের দিন—প্রতিরোধ, রক্ত, কান্না আর এক টুকরো সাহসের প্রতিচ্ছবি।




0 Comments