WelCome To

1mnews01

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নোয়াবের গভীর উদ্বেগ

Header Ads Widget

banner

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নোয়াবের গভীর উদ্বেগ

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নোয়াবের গভীর উদ্বেগ

📅 প্রতিবেদক: মুনিয়া মুমু | ৮ আগস্ট ২০২৫

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে সম্প্রতি গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)। একটি লিখিত বিবৃতিতে সংগঠনটি সম্প্রতি দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছে— গণমাধ্যমকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাপ প্রয়োগের সংস্কৃতি বন্ধ না হলে গণতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল হবে।

নোয়াবের সভাপতি এ কে আজাদ স্বাক্ষরিত এই বিবৃতি বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) প্রকাশিত হয়।

🧾 জনকণ্ঠ ইস্যু: হুমকি ও মব সংস্কৃতির অভিযোগ

বিবৃতিতে বলা হয়, দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার কার্যালয় ও অনলাইন পোর্টালে সংগঠিত একদল লোক ‘মব’ তৈরি করে দাবি আদায়ে চাপ সৃষ্টি করেছে। সংগঠনটি মনে করে, পত্রিকার উদ্যোক্তাদের উচ্ছেদ বা প্রশাসনিক দাবির জন্য এমন পথ গ্রহণ অনভিপ্রেত।

“কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট-সংক্রান্ত বিরোধ থাকলে প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ দেওয়া যেতো, কর্মীদের কোনো পাওনা থাকলে শ্রম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি সম্ভব ছিল,” –বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

📉 গণমাধ্যম স্বাধীনতার পরিপ্রেক্ষিত: টিআইবি’র উদ্বেগ

নোয়াব তাদের বিবৃতিতে টিআইবি (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ)-এর সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে আনে। সেই প্রতিবেদনে গণমাধ্যম ও তথ্যপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র।

২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ের মধ্যে:

  • 🎯 ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন

  • ⚖️ ২৬৬ জন সাংবাদিক গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলার আসামি

  • ☠️ ৩ জন সাংবাদিক দায়িত্ব পালনের সময় নিহত

  • ২৪ জন গণমাধ্যমকর্মীকে পদচ্যুত

  • 📰 ৮টি সংবাদপত্রের সম্পাদক বরখাস্ত

  • 📺 ১১টি টিভি চ্যানেলের বার্তাপ্রধান অপসারিত

এই পরিসংখ্যান গণমাধ্যমের ওপর চাপ এবং সাংবাদিকদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে।

📣 নোয়াবের দাবি ও আহ্বান

নোয়াব মনে করে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অপরিহার্য ভিত্তি।
তাদের বক্তব্য:

“গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা নিয়ে দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হয়নি।”

তাই সংগঠনটি সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে—

✅ সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ
✅ গণমাধ্যমে ‘মব’ সংস্কৃতির অবসান
✅ সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর নীতি ও আইনি নিরাপত্তা
✅ মালিক ও সম্পাদকদের স্বাধীনভাবে পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করা

🧭 উপসংহার: গণতন্ত্র ও মুক্ত সাংবাদিকতা—একসূত্রে গাঁথা

গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করে গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখা যায় না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা—এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত না হলে একটি সভ্য রাষ্ট্রের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে।

নোয়াবের এই বিবৃতি শুধু একটি ঘটনার প্রতিবাদ নয়, বরং একটি বিপজ্জনক প্রবণতার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা।


Post a Comment

0 Comments