লেবাননের নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনায় সরব হিজবুল্লাহ: “গুরুতর পাপ” দাবি করে প্রত্যাখ্যান
মধ্যপ্রাচ্যের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ লেবানন সরকারের সামরিক নিরস্ত্রীকরণের পরিকল্পনাকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
গতকাল বুধবার (৬ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ পায়।
নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনা কী ছিল?
লেবাননের মন্ত্রিসভা গত মঙ্গলবার দেশজুড়ে থাকা সকল সামরিক ও বেসামরিক অস্ত্র রাষ্ট্রায়ত্ত করার জন্য সেনাবাহিনীকে একটি পরিকল্পনা উপস্থাপনের নির্দেশ দেয়।
এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য ছিল দেশটিকে একক সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এনে একটি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা, যাতে বিরোধী গোষ্ঠীসহ যে কোনো সশস্ত্র বাহিনী অস্ত্র থেকে মুক্ত থাকবে।
হিজবুল্লাহর বিরোধিতা ও বক্তব্য
তবে এই পরিকল্পনা হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর কাছে মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। গোষ্ঠীটি বলেছে, তারা লেবাননের অস্ত্রধারী শক্তিগুলোর ওপর সেনাবাহিনীর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ স্বীকার করবে না।
তারা মনে করে, এর ফলে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা পাবে, যা লেবাননের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে,
"নিরস্ত্রীকরণের মতো কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা হবে ‘গুরুতর পাপ’। আমরা এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করব না।"
হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা
হিজবুল্লাহকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী প্যারামিলিটারি বাহিনী হিসেবে ধরা হয়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ধারণা করেন, গোষ্ঠীর কাছে রয়েছে হাজার হাজার রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র, যা বিভিন্ন পাল্লায় হামলা চালাতে সক্ষম।
এর ফলে, লেবাননের সামরিক ভারসাম্য এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হিজবুল্লাহর অস্ত্র ক্ষমতা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
আন্তর্জাতিক চাপ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
গত কয়েক বছর ধরে, লেবানন সরকার ও পশ্চিমা দেশগুলো বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, গোষ্ঠীটির অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণে চাপ সৃষ্টি করে আসছে।
তবে হিজবুল্লাহ তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক উপস্থিতি দেশের স্বার্থের সঙ্গে সংযুক্ত বলে দাবি করে অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননের ভেতরকার এই সামরিক বিভাজন ও বিরোধিতা দেশটির রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে আরও জটিল করে তুলছে।
সেনাবাহিনীর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় বাধা সৃষ্টি করে এমন গোষ্ঠীগুলো দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর কার্যকারিতা সীমিত করছে।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি
লেবানন সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চায়, তাহলে এই সামরিক সংঘাত ও বিভাজন মোকাবেলায় কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে।
হিজবুল্লাহর অবস্থান পরিবর্তন ছাড়া “নিরস্ত্রীকরণ” বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে আরও সতর্কতা জারি হতে পারে এবং দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হওয়ার আশঙ্কাও করছেন বিশেষজ্ঞরা।




0 Comments