জামায়াতের প্রার্থীদের ‘টাকা ছড়ানোর’ অভিযোগ নিয়ে যা বললেন গোলাম পরওয়ার
চব্বিশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই সুসংগঠিতভাবে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে জামায়াত। গত ডিসেম্বরেই তারা ৩০০ আসনের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে। ভোটার গ্রহনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচি ও সেবামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে; একই কৌশলে ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শিবির জয়লাভ করায় দলের মনোবল বাড়ছে। অন্যদিকে, কিছু প্রার্থীর বিরুদ্ধে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ উঠতেই তা খণ্ডন ও দলের অভ্যন্তরীণ কিছু পরিবর্তনও দেখা গেছে — তবে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং কিছু নেতাকে সাংগঠনিক কারণ দেখিয়ে সরানো হয়েছে বলে ঘোষণা করেছে।
নির্বাচনী প্রস্তুতি ও মাঠকর্ম
জামায়াত শুরুর দিকে থেকেই নির্বাচনী প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করেছে; গত ডিসেম্বরেই ৩০০ আসনের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে তারা। ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য সাধারণ রাজনৈতিক কর্মসূচি ছাড়াও বিভিন্ন সেবামূলক কাজ পরিচালিত হচ্ছে—যার লক্ষ্য লোকজনের মধ্যে সংগঠনের উপস্থিতি ও বিশ্বাস বাড়ানো। তরুণ ভোটার আকর্ষণের কৌশল হিসেবে ছাত্র রাজনীতিতেও সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানো হচ্ছে; এ প্রেক্ষাপটে ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে শিবিরের বিজয় দলটির কৌশলকে সফলতা হিসেবে উপস্থাপন করছে।
বিতর্ক: টাকা ছড়ানোর অভিযোগ
কিছু এলাকায় জামায়াতর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেছে যে তারা ভোটারদের প্রলুব্ধ করতে টাকার ব্যবস্থা করছে। অভিযোগ অনুসারে কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী সরাসরি বা পরোক্ষভাবে টাকা ছড়ানোতে জড়িত—যা নির্বাচনী অনিয়ম ও অশুদ্ধ প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়।
দলের প্রতিক্রিয়া — মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার এসব অভিযোগ খণ্ডন করে বলেছেন, “একটাও প্রমাণ নেই। টাকা ছড়াবে কেন? এগুলো হচ্ছে যে অহেতুক কথাবার্তা,” তিনি আরও প্রশ্ন তুলে বলেন—“উনারা বলেন যে ১৬টা ভিসি জামায়াত ইসলামীর। তো কে কে নাম-তালিকা ঘোষণা করুক। আমরা তো বলেছি যে ঠিক আছে, যদি যুক্তির জন্য ধরে নিলাম সত্যিই হয় তো ১৬টা, আর বাকি ভিসিরা কাদের? ওরাও তো একটা দলের। সেটা তো বলেন না।”
পরওয়ার দাবি করেছেন যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও সমালোচনায় আসা বিষয়গুলোকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার কোনো কারণ নেই। তার ভাষ্য, “আমাদের সাংগঠনিক প্রয়োজনে কেন্দ্রের দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে আমরা ওখানে নতুন ভারপ্রাপ্ত আমির নির্বাচন করেছি। আর বড় কথা হলো যে মানুষ তো ত্রুটি-বিচ্যুতির ঊর্ধ্বে কেউ না। শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনও কাজে কেউ জড়িত হলে ছাড় দেয় না জামায়াত। যখনই জানতে পারেন তখন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেন।”
নেতৃত্ব পরিবর্তন: চট্টগ্রামের বিষয়ে
সংবাদে বলা হয়েছে, অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মহানগর আমির শাজাহান চৌধুরীসহ কয়েকজন নেতাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মিয়া গোলাম পরোয়ার এই সিদ্ধান্তকে অনিয়মগত কারণ বলে মানতে অস্বীকার করে জানিয়েছেন যে এটি purely সাংগঠনিক কারণেই নেওয়া হয়েছে এবং কেন্দ্রের দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনের উদ্দেশ্যে নতুন ভারপ্রাপ্ত আমির মোতায়েন করা হয়েছে।
পর্যালোচনা ও সম্ভাব্য সামাজিক–রাজনৈতিক প্রভাব
-
জামায়াতের মাঠপরিকাঠামো ও সেবামূলক কার্যক্রম নির্বাচনঘণ্টায় তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে; পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতিতে সফলতা তরুণ ভোটারদের নজর আকর্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
-
অভিযোগ ও নেতাবদল নিয়ে উঠা প্রশ্নগুলি দ্রুত সমাধান না হলে দলীয় ইমেজে ঝটকা লাগতে পারে—বিশেষ করে যে কোনও বিতর্কে প্রমাণভিত্তিক জবাব না থাকলে সমালোচনা কড়া হয়ে উঠতে পারে।
-
দলীয় পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার এবং “সাংগঠনিক পরিবর্তন” বলে ব্যাখ্যা দিলে তা কিছু ভোটারকে আশ্বস্ত করলেও অপরদিকে তত্ত্বাবধানকারী বা নিরপেক্ষ সংস্থার বিচার প্রশ্ন করা হতে পারে — যদি অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের দাবি উঠে।
উপসংহার
বর্তমানে জামায়াত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাদের সংগঠনগত ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্রিয় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে—একদিকে নির্বাচনী তালিকা ও মাঠকর্ম, অন্যদিকে ছাত্র রাজনীতিতে জয়—তবে টাকার মাধ্যমে প্রভাবকল্পে ভোটার প্রলুব্ধ করার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে ঝুলে আছে। দলের উচ্চপদস্থরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন কোনও প্রমাণ নেই এবং যেকোনো শৃঙ্খলাভঙ্গ হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী নির্বাচনী সময়ে এসব অভিযোগ ও দলের প্রতিক্রিয়া কিভাবে প্রভাব ফেলবে তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কাড়বে।




0 Comments