জ্বলানি খাতে বাংলাদেশকে সহায়তায় আলোচনা চলছে: জার্মান উপমন্ত্রী
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি বলে মন্তব্য
প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফরে এসে ঢাকার যানজটের মুখোমুখি হলেন জার্মানির ফেডারেল মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ইওহান সাটফ। রাজধানীর ব্যস্ত রাস্তায় আটকে থেকে যমুনা টেলিভিশনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বললেন—
“ভীষণ ব্যস্ত শহর! অবিশ্বাস্য যানজট। তবুও আশ্চর্যের বিষয় হলো—সবকিছুই চলছে!”
যানজটের অভিজ্ঞতা যেন তার সফরের প্রথম চমক। তবে এই হাস্যরসের বাইরে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা উন্নয়নের ভিত্তি
ইওহান সাটফ বলেন,
“রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা উন্নয়নের মূল ভিত্তি। আমি রাজনীতিতে এসেছি আমার পাঁচ সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য। বাংলাদেশের প্রতিটি মা-বাবার স্বপ্নও তাই—সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়া।”
তিনি আরও জানান, একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন নির্ভর করে তার রাজনৈতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি দেখতে চান নিরাপদ, অংশগ্রহণমূলক ও স্থিতিশীল রাজনীতি।
জ্বালানি খাতে জার্মানির সহায়তা
জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রসঙ্গে ইওহান সাটফ বলেন,
“আমরা বাংলাদেশে ‘স্মার্ট গ্রিড’ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করছি। এটি বাস্তবায়িত হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা আরও সহজ হবে।”
তিনি জানান, জার্মানি ইতোমধ্যে সৌর ছাদ প্রকল্প, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সবুজ শক্তি ব্যবহারের উদ্যোগে বাংলাদেশের পাশে কাজ করছে।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,
“আমি নিজে জ্বালানি বিষয়ক মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছি, তাই এই খাতটি আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
জার্মানি বাংলাদেশের শক্তিশালী অংশীদার
বাংলাদেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পথে। এই যাত্রায় ইউরোপের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে জার্মানি পাশে থাকবে বলে জানান ইওহান সাটফ।
তার ভাষায়—
“জার্মানি শুধু উন্নয়ন নয়, বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের শক্তিশালী অংশীদার। আমরা ইউরোপের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে পাশে আছি এবং এই রূপান্তর যেন মসৃণভাবে হয়, সে দিকেই কাজ করবো।”
সার্বিক বার্তা
ঢাকার যানজটে মুগ্ধ হলেও ইওহান সাটফের বক্তব্যে উঠে এসেছে বাংলাদেশের প্রতি তার আন্তরিকতা, আস্থা ও সহযোগিতার অঙ্গীকার।
রাজনীতি থেকে জ্বালানি—সব ক্ষেত্রেই তিনি দেখতে চান একটি স্থিতিশীল, উদ্ভাবনী ও সবুজ বাংলাদেশ।




0 Comments