বাজারে স্বস্তি এনেছে শীতকালীন সবজি, ঊর্ধমুখী মাছ-মাংসের দর
শীতকালীন সবজিতে খানিকটা স্বস্তি, চড়া পোল্ট্রি বাজারে ভোক্তাদের নাভিশ্বাস
মাছের যোগান বাড়লেও দাম কমছে না— বরং সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের মাছের কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) এমন চিত্রই দেখা গেছে।
বাজারে এখন রুই, কাতলা, আইড়-বোয়ালসহ দেশীয় মাছের সরবরাহ আগের চেয়ে কিছুটা বেশি হলেও, দাম সাধারণ ভোক্তার নাগালের বাইরে। বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, পাইকারি পর্যায়ে দাম না কমায় খুচরা বাজারেও কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
রুই-কাতলার দাম কেজিতে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকার নিচে নেই। আইড়-বোয়াল মিলছে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায়। আর মানসম্মত চিংড়ির কেজি হাজার টাকার নিচে নামেনি।
পোল্ট্রি বাজারেও আগুন
মাছের পাশাপাশি পোল্ট্রির বাজারেও লেগেছে দাম বৃদ্ধির ঢেউ। সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। সোনালি জাতের মুরগি মিলছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়, আর দেশি জাতের দাম ৬০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজার এবং খামার পর্যায়ে দাম বাড়ায় তাদেরও বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
সবজির বাজারে স্বস্তির ইঙ্গিত
অপরদিকে, রাজধানীর বাজারে এখন আগাম শীতকালীন সবজির আমদানি বেড়েছে। ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, বেগুন, টমেটোসহ নানা শীতকালীন সবজি দেখা যাচ্ছে দোকানভর্তি। ধীরে ধীরে দাম কমছে এসব পণ্যের।
ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, অনেক কৃষক এখনও মাঠ থেকে সবজি তুলতে শুরু করেননি। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কিছুটা কমবে বলে আশাবাদী তারা।
মাংসের বাজার স্থিতিশীল
গরু ও খাসির মাংসের দামে তেমন হেরফের নেই। বর্তমানে এক কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায়, আর খাসির মাংসের দাম স্থির আছে ১১০০ টাকায়।
সার্বিক চিত্র
সবজি বাজারে খানিকটা স্বস্তি ফিরলেও মাছ ও পোল্ট্রির চড়া দাম এখনও ভোক্তাদের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারের বিক্রেতা ও ক্রেতা— উভয়েরই অভিযোগ, পাইকারি পর্যায়ের মূল্য নিয়ন্ত্রণ না থাকায় খুচরা বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরছে না।




0 Comments