লিবিয়া উপকূলে আবারও নৌকাডুবি, নিহত ১৮
উদ্ধার করা হয়েছে ৯২ জনকে, দুই সপ্তাহে মিলেছে ৬১ মরদেহ
আবারও ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর মিছিল। অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টায় লিবিয়া উপকূলে ডুবে গেছে একটি অভিবাসী বোঝাই নৌকা।
এ ঘটনায় অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে রেড ক্রিসেন্ট (Red Crescent)।
ঘটনাস্থল থেকে ৯২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে রেড ক্রিসেন্ট জানায়, স্থানীয় সময় সোমবার গভীর রাতে রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ৭৬ কিলোমিটার দূরে উপকূলীয় শহর সাব্রাথায় ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
খবর পেয়ে সংস্থার উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
রাতভর তল্লাশি শেষে ভোর পর্যন্ত চলে তৎপরতা। উদ্ধারকৃতদের দেওয়া হয়েছে প্রাথমিক চিকিৎসা ও আশ্রয়।
রেড ক্রিসেন্ট তাদের সামাজিক মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থলের বেশ কিছু হৃদয়বিদারক ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যায় উদ্ধারকর্মীরা মৃতদেহগুলো তীরে নিয়ে আসছেন।
ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকট
লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনা। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ভূমধ্যসাগরের এই অংশ থেকে ৬১ জন অভিবাসন প্রত্যাশীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে ইউরোপে অবৈধ পথে প্রবেশের অন্যতম ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে লিবিয়া।
অভিবাসীদের অধিকাংশই আসে আফ্রিকার দারিদ্র্যপীড়িত দেশগুলো থেকে — উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপগামী পথে পাড়ি জমায় ছোট, অনিরাপদ নৌকায়।
কিন্তু এই যাত্রা প্রায়ই পরিণত হয় মৃত্যুর যাত্রায়। ঝুঁকিপূর্ণ আবহাওয়া, অতিরিক্ত যাত্রী, আর দুর্বল নৌযানের কারণে প্রায়ই ঘটে এমন দুর্ঘটনা।
মানবিক সংস্থাগুলোর আহ্বান
রেড ক্রিসেন্ট ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউরোপ ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—
অভিবাসন রোধ নয়, বরং নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।
তারা বলছে, নৌকাডুবির এই পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে—মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন রোধে এখনও বড় ফাঁক রয়ে গেছে।
সারসংক্ষেপ
-
ঘটনা: লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি
-
নিহত: অন্তত ১৮ জন
-
উদ্ধার: ৯২ জন
-
স্থান: সাব্রাথা, ত্রিপোলি থেকে ৭৬ কিমি দূরে
-
উৎস: রেড ক্রিসেন্ট
-
দুই সপ্তাহে মোট মৃত: ৬১ জন




0 Comments