WelCome To

1mnews01

জুলাইয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্স আয়: ৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি

Header Ads Widget

banner

জুলাইয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্স আয়: ৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি

জুলাইয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্স আয়: ৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৪৮ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০,২৩১ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে)। এই অর্থ প্রবাহ গত বছরের একই মাসের তুলনায় ২৯.৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স আয়ে এই উত্থান দেশের অর্থনীতির জন্য এক সুখবর।

রেমিট্যান্সে ৫ বছরের রেকর্ড

গত পাঁচ বছরের মধ্যে একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এই জুলাইয়ে এসেছে। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই মাসে দেশে সর্বোচ্চ ২৫৯.৮২ কোটি ডলার পাঠানো হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল, যা পরবর্তীতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে দ্রুত বেড়ে গেছে।

রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব ও তার পরবর্তীতে বৃদ্ধি

২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহ্বান জানিয়ে আইনি চ্যানেল থেকে রেমিট্যান্স পাঠানো কমিয়ে দিয়েছিলেন। এর ফলে ওই মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম। তবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার পর প্রবাসীরা আবারও বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাঠানো শুরু করেন, যা রেমিট্যান্স প্রবাহে পুনরুদ্ধার ঘটিয়েছে।

রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণসমূহ

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ উল্লেখযোগ্য:

  • ব্যাংকিং চ্যানেলের উন্নয়ন: দেশে আইনি ও আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতি এবং ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের প্রসার রেমিট্যান্স পাঠানোকে সহজ ও সুরক্ষিত করেছে।

  • ২.৫% প্রণোদনা: সরকার হুন্ডি প্রতিরোধ এবং বৈধ রেমিট্যান্স উৎসাহিত করতে ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা চালু করেছে, যা অনেক প্রবাসীকে বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করেছে।

  • হুন্ডি প্রতিরোধ: অবৈধ অর্থপ্রেরণার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় আইনি চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।

  • আইনি চ্যানেল সহজীকরণ: সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে বৈধ চ্যানেল থেকে অর্থ স্থানান্তর করা আরও সহজ ও দ্রুত হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে প্রভাব

রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধির কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এটি অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় সহায়তা করছে এবং বৈদেশিক ঋণ ও আমদানির ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করছে।

প্রবাসীদের অবদান ও সরকারের ভূমিকা

অনাবাসী বাংলাদেশিরা (এনআরবি) দেশের অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বিদেশি মুদ্রার উৎস হিসেবে অত্যন্ত মূল্যবান। সরকারও তাদের উৎসাহিত করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে, যার ফলে বৈধ পথে রেমিট্যান্সের প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

রেমিট্যান্স প্রবাহকে আরও বাড়াতে এবং অবৈধ অর্থপ্রেরণাকে রোধ করতে সরকার নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার উন্নয়ন, সেবা সহজীকরণ ও প্রণোদনা বৃদ্ধি এই পরিকল্পনার অংশ। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে রেমিট্যান্সের ভূমিকা আগামীতে আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সমাপ্তি

বর্তমান সময়ে বৈধ ও নিরাপদ পথে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক বৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান এবং সরকারের সহায়ক নীতিমালা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখছে। আশা করা যায়, আগামী মাসগুলোতেও এই প্রবাহ অব্যাহত থাকবে।


Post a Comment

0 Comments